টিকার নিবন্ধন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি :

ভোটার তালিকায় তিন বছর আগেই তিনি ‘মৃত’। এখন বাঁচার জন্য টিকা দরকার। কিন্তু ভোটার তালিকায় তাকে ‘মৃত’ দেখানোয় টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না।

ঝিনাইদহ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের কাঞ্চননগর গ্রামের মৃত শেখ মোহাম্মদ আলীর ছেলে এসএম আনোয়ার হোসেন। দিব্যি জীবিত থাকলেও তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তিনি কিছু করতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার বিকালে এ প্রতিবেদকের কাছে আনোয়ার জানান, নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেইজে তিনি মৃত। কিন্তু বাঁচান জন্য এখন তার দরকার টিকার রেজিস্ট্রেশন। তিনি ছোট-খাটো ঠিকাদারি কাজ করেন। করোনা ভ্যাকসিনের নিবন্ধন করতে গিয়ে জানতে পারলেন তিনি ‘মৃত’।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, এসএম আনোয়ার নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেইজে ২০১৮ সালের আগ থেকেই ‘মৃত’। ২০১৮ সালে সংসদ নির্বাচনের আগে পৌরসভা থেকে স্মার্টকার্ড গ্রহণ করেন আনোয়ার।

তিনি অভিযোগ করেন, ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক শরিফুল ইসলাম তার এলাকার ডাটাবেইজ তৈরি করেন। তিনিই তাকে ‘মৃত’ দেখিয়েছেন।

তবে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বাড়ির লোকজনের দেয়া তথ্য নিয়ে ফর্ম পূরণ করা হয়েছে। ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এরকম করা হয়নি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মশিউর রহমান জানান, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্যগত ভুল হতেই পারে। তবে আবেদন করে সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে।

এসএম আনোয়ার জানান, তার পরিচয়পত্রে এতো বড় ভুল থাকার কারণে শতবার চেষ্টা করেও টিকা নিবন্ধন করা যায়নি।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামীম কবির জানান, সরকার ৮০ শতাংশ লোককে টিকার আওতায় আনার চিন্ত করেছে। সে লক্ষ্যে নিবন্ধন না করে শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার লিখে রেখে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করছে।

এদিকে নির্বাচন অফিসের দৃষ্টিতে এটা খুব ছোট সমস্যা হলেও এমন সমস্যা নিয়ে অনেক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। কারও বাপের থেকে ছেলে দুই বছরের বড়। কারো নামের বানান ভুল। সার্টিফিকেটে এক নাম জাতীয় পরিচয়পত্রে আরেক নাম। প্রকৃত বয়সের চেয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রে বয়স ১৫/২০ বছর কম- এমন সমস্যা নিয়ে অনেকেই ঝিনাইদহ নির্বাচন অফিসে ভিড় করছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, সরেজমিনে না গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করায় এমন ভুলের মাশুল দিচ্ছে গ্রামের সাধরণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *